
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া চাইল্ড হেভেন গার্লস স্কুলের বাংলা শিক্ষক আখের উদ্দিনের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ ও অস্বস্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মৌখিকভাবে জানানো হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার অভিভাবকদের অভিযোগের পর প্রধান শিক্ষক বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ক্লাসে পড়া ধরার সময় শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের কাছে গিয়ে পিঠ বা মাথায় হাত দেওয়া, বেঞ্চে এসে পাশে বসা কিংবা গা ঘেঁষে বসার মতো আচরণ করেন। এতে তারা অস্বস্তি বোধ করেন বলে অভিযোগ। কয়েকজন শিক্ষার্থীর দাবি, বিভিন্ন শ্রেণির একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে এমন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষক কখনো কখনো এমন কথাবার্তা বলেন, যা তাদের কাছে অস্বস্তিকর ও আপত্তিকর মনে হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রী বিষয়টি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ বলেন, বাংলা শিক্ষক আখের উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালেও একই ধরনের অভিযোগ এসেছিল। সে সময় শিক্ষকরা বৈঠক করে তাকে সতর্ক করেছিলেন এবং তিনি ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এবার পুনরায় অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে অভিযোগ করার পর শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে লিখিতভাবে জানানো হবে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। অভিভাবকরাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।