
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরসাদিপুর ইউনিয়নের ৮৩ নম্বর চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রমে অনিয়ম, অবৈধ কোচিং বাণিজ্য এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের ওপর হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে শিক্ষা বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ২৯৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। বিদ্যালয়ে ছয়টি শিক্ষক পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ ও তাঁর স্ত্রী সহকারী শিক্ষক গোলাপী পারভীন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিক্ষক দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে অনিয়ম রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সংকটের কথা বলে রিয়াদ হোসেন ও মো. আল আমিন নামে দুজনকে পাঠদানের কাজে যুক্ত করা হলেও তাঁদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং করানো হয়। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ৩০০ টাকা এবং যাতায়াতের জ্বালানি বাবদ আরও ২০ টাকা নেওয়া হতো বলে স্থানীয়দের দাবি। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার সকালে গণিত পরীক্ষা চলাকালে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার কারণে এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তার অভিভাবক বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। প্রায় ৩০ মিনিট পর ওই শিক্ষার্থীকে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
পরিবারটির অভিযোগ, ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করার কারণে ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাইয়ের ওপর বিকেলে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে হামলা চালানো হয় এবং তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়। সংবাদ প্রকাশের পর থেকেও পরিবারটির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ বলেন, মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে ২৯৫ জন শিক্ষার্থীকে সামলানো কঠিন। ওই শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বের করে দেওয়া হয়নি; বরং তার অভিভাবককে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়েছিল। শিক্ষার্থীর ভাইয়ের ওপর হামলার বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন নিয়ে পড়ানোর নিয়ম নেই। অভিযোগ ওঠার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে