August 31, 2026, 6:07 am

ট্রেনে সুটকেসে নারীর মরদেহ, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

অভয়নগর প্রতিবেদক

ভারতের তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি লাল সুটকেস থেকে নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) মণিপুরের জিরিবাম জেলার কাশিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন আসামের কাছাড় জেলার ২২ বছর বয়সী মানিক উদ্দিন লস্কর এবং ওড়িশার কেওনঝড় জেলার ২১ বছর বয়সী তাঁর স্ত্রী ভাগবতী মাঝি। পুলিশ জানিয়েছে, চেন্নাই সেন্ট্রাল রেলওয়ে স্টেশনের কয়েক ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ভারী লাল সুটকেসটি বহন করতে দেখা যায় মানিককে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ভাগবতী। পরে তাদের গতিবিধি অনুসরণ করে চেন্নাইয়ের উপশহর গুডুভানচেরির একটি ভাড়া বাসার সন্ধান পায় পুলিশ।

গত ৫ আগস্ট আগ্রা ক্যান্ট স্টেশনে তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস পৌঁছালে সাধারণ কামরায় পড়ে থাকা একটি লাল সুটকেস থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরকারি রেলওয়ে পুলিশ সুটকেসটি খুলে মাথাবিহীন ও খণ্ডিত এক নারীর মরদেহ দেখতে পায়। তদন্তে পুলিশ গুডুভানচেরির ওই ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বড় রান্নার পাত্রের ভেতর থেকে মরদেহের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করে। ফরেনসিক পরীক্ষায় নিহত নারীর পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাঁর নাম হায়াতুন নিশা, বয়স ৩৮ বছর। তিনি ওড়িশার বাসিন্দা এবং গুডুভানচেরিতে বসবাস করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। প্রথমে ঘটনাটি নিখোঁজ ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত হলেও দেহাবশেষ উদ্ধারের পর তা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

পুলিশের দাবি, মরদেহ ফেলে দেওয়ার পর সন্দেহভাজন দম্পতি আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে মণিপুর ও তামিলনাড়ু পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালায়। মণিপুর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার দুজনকে গুডুভানচেরি থানার কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আদালতে হাজির করার পর তাদের ট্রানজিট ওয়ারেন্টের মাধ্যমে তামিলনাড়ুতে নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার আশা করছে তদন্তকারী সংস্থা।



ফেসবুক কর্নার