September 3, 2026, 4:54 am

কুষ্টিয়ায় ৯ কোটি টাকার আধুনিক কসাইখানা চালু

তানভীর আজাদ জাহিদ দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শহরের অদূরে লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় নির্মিত কসাইখানায় গবাদিপশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের বাস্তবায়নে নির্মিত এ স্থাপনায় প্রাথমিকভাবে প্রচলিত পদ্ধতিতে পশু জবাই এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, কসাইখানাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শহরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে কসাইখানাটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে এটি পরিচালনার দায়িত্ব কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, প্রথমে ইসলামি রীতি অনুযায়ী সনাতন পদ্ধতিতে গবাদিপশু জবাই করা হবে। এরপর মাংস প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অন্যান্য কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে মেশিন ও প্রচলিত—দুই পদ্ধতিতেই মাংস প্রস্তুত করা হবে। এতে মাংস ব্যবসায়ীদের সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি পশু জবাই থেকে সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে।
আধুনিক কসাইখানায় পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগাক্রান্ত পশু শনাক্তকরণ এবং বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাংস প্রক্রিয়াজাতের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে জবাই করা পশুর চামড়া তুলনামূলকভাবে অক্ষত রাখার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য মাংসের স্বাস্থ্যসম্মত মানের পাশাপাশি শরিয়তসম্মত জবাই নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, পশু জবাইয়ের সময় ইসলামি বিধান অনুসরণ, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়গুলো কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হোক। সংশ্লিষ্টদের মতে, কসাইখানাটি নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালিত হলে কুষ্টিয়া শহরের মাংস সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।



ফেসবুক কর্নার