September 3, 2026, 4:24 am

বাজারে মিলছে না ১১৭ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ

মোঃ ইসমাইল হোসেন

দেশে সরকার নির্ধারিত ১১৭টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের বেশিরভাগই বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো ওষুধের চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে, আবার কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিন মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় কিছু ওষুধ উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়েছে কোম্পানিগুলো। ফলে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রিকশাচালক আমির আলী জানান, কিছু ওষুধ বিনামূল্যে পেলেও দুটি প্রয়োজনীয় ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। গাড়িচালক মেহেদীও জানান, বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে তাঁর দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
১৯৯৪ সালে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ১১৭টি ওষুধের দাম নির্ধারণ করেছিল। তবে সময়ের সঙ্গে চিকিৎসা প্রযুক্তি ও ওষুধের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় তালিকার অনেক ওষুধের ব্যবহার কমেছে। পাশাপাশি কিছু ওষুধের কাঁচামালের দাম বাড়লেও সরকারিভাবে নির্ধারিত মূল্য দীর্ঘদিন হালনাগাদ হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর ওষুধের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য না থাকলে কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় পুরোনো ওষুধ উৎপাদনের পরিবর্তে তুলনামূলক বেশি দামের নতুন ওষুধ বাজারজাত করতে উৎসাহিত হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, তালিকাভুক্ত কিছু পুরোনো ওষুধের উৎপাদন প্রযুক্তি এখন সেকেলে হলেও কিছু ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে উৎপাদন ব্যয় কমেছে। তাই প্রতিটি ওষুধের মূল্য ও চাহিদা পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের দাম খুব বেশি হলে নিম্নআয়ের মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, আবার অতিরিক্ত কম দাম হলে উৎপাদনকারীরা বাজার থেকে সরে যেতে পারেন। ফলে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও উৎপাদন ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে মূল্য নির্ধারণ এবং বাজারে কার্যকর তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করা এখন জরুরি।



ফেসবুক কর্নার