September 5, 2026, 6:16 am

একাত্তরে বাবার শান্তি কমিটিতে থাকার ব্যাখ্যা আসিফের

মোঃ ইসমাইল হোসেন

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটিতে যুক্ত থাকার কারণে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি বাবার সে সময়কার রাজনৈতিক ভূমিকা ও শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন আসিফ আকবর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলী আকবর কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও তিনি মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
আসিফ জানান, মুসলিম লীগের নেতা হওয়ার কারণে ১৯৭১ সালে তার বাবা শান্তি কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তার দাবি, ওই সম্পৃক্ততাকে কাজে লাগিয়ে আলী আকবর অনেক মানুষের জীবন, সম্পদ, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষা করেছিলেন। আসিফের ভাষ্য, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির হাত থেকেও রক্ষা করেছিলেন। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে জানান তিনি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাবার সম্পর্ক প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি এভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়; মুসলিম লীগের নেতা হিসেবে তিনি মূলত তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ছয় দফা ঘোষণার পরও তার বাবা পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে চিঠি লিখেছিলেন বলে দাবি করেন আসিফ।
স্বাধীনতার পরের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। আসিফ জানান, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে নিরাপত্তার জন্য কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ১৭ ডিসেম্বর আলী আকবর নিজেই কাস্টডিতে যান। এরপর তার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হলেও ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য, ১৯৭৪ সালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার বাবা এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে নয়, আদালতে আইনি প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েই তার বাবা মুক্তি পেয়েছিলেন এবং দালাল আইনের অধীনেও তার কোনো সাজা হয়নি। একাত্তরে বাবার ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এসব বক্তব্য তুলে ধরেছেন আসিফ আকবর।



ফেসবুক কর্নার