
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে মশারির ভেতরে ঢুকে বিষধর সাপের দংশনে মিকাইল (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার ৬ নম্বর গান্না ইউনিয়নের কুটি দুর্গাপুর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিকাইল ওই গ্রামের মো. আশরাফুলের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে প্রতিদিনের মতো নিজ ঘরে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মিকাইল। মধ্যরাতে একটি বিষধর সাপ মশারির ভেতরে ঢুকে তাকে দংশন করে। ছোবলের পর মিকাইলের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে বিছানার ভেতর থেকে একটি গোখরা সাপও উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মিকাইলকে উদ্ধার করা সাপসহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে তার চিকিৎসা শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী তাকে ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও ভোররাতে তার মৃত্যু হয়। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, মিকাইলকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব এবং বিষক্রিয়ার তীব্রতার কারণে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। গোখরার বিষ স্নায়ুতন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সাপে কাটার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে অ্যান্টিভেনমের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থাও লাগতে পারে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখার কথাও জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে মাত্র ১৮ বছর বয়সী মিকাইলের আকস্মিক মৃত্যুতে কুটি দুর্গাপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয়রা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসকরা সাপের উপদ্রব থেকে সতর্ক থাকতে রাতে ঘুমানোর সময় মশারির চারপাশ ভালোভাবে গুঁজে দেওয়া, ঘরের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সাপে কাটলে ঝাড়ফুঁক বা কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।