September 11, 2026, 10:35 am

পদ্মার পানি বৃদ্ধি, ১৮ প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ

তানভীর আজাদ জাহিদ দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, গো-খাদ্য ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা সংকট। বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৬টি প্রাথমিক ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পাঠদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য বিদ্যালয়গুলোর ভবন খোলা রাখা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুস্তাক আহাম্মেদ জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় আপাতত এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বন্যাকবলিত মানুষ বিদ্যালয়গুলোতে আশ্রয় নিতে পারবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রায় ৬৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে পানি ১২ দশমিক ৮৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার হওয়ায় পানি বিপৎসীমার ৯২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে চিলমারী, ফিলিপনগর, মরিচাসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে রোপা আমন ধান, কলা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল।
বসতবাড়ির আশপাশে পানি পৌঁছে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একই সঙ্গে গো-খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটও তীব্র হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তৎপর রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিলমারী ইউনিয়নের অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পদ্মার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গবাদিপশুর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা



ফেসবুক কর্নার