September 17, 2026, 9:43 am

আসামে ৭৩ পরিবারের বাড়ি উচ্ছেদে হাইকোর্টের প্রশ্ন

ফয়সাল আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার

আসামের গোয়ালপাড়া জেলায় ৭৩টি মুসলিম পরিবারের বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিশে ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমিতে থাকা এসব বাড়ি উচ্ছেদের পদক্ষেপকে প্রাথমিকভাবে ‘বেআইনি ও অননুমোদিত’ বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন আদালত। গত ৭ সেপ্টেম্বর গোয়ালপাড়া জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সার্কেল অফিস থেকে পরিবারগুলোকে নোটিশ দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কৃষিজমিতে নির্মিত ঘর সরিয়ে নিতে বলা হয়। প্রশাসনের দাবি, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন ছাড়াই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল এবং উচ্ছেদের ক্ষেত্রে ১৮৮৬ সালের আসাম ভূমি ও রাজস্ব বিধান ও ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের বিধান প্রয়োগ করা হয়।
উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ২১ জন ভুক্তভোগী হাইকোর্টে আবেদন করেন। তাদের অভিযোগ, আত্মপক্ষ সমর্থন বা আইনি প্রতিকার নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়েই বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। শুনানিতে বিচারপতি দেবাশিস বড়ুয়া প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, নোটিশে এমন কোনো ‘আসন্ন বিপদের’ পরিস্থিতি প্রতীয়মান হয়নি, যা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। আদালত ২০১৫ সালের আসাম কৃষিজমি পুনঃশ্রেণীকরণ ও হস্তান্তর আইনের কথাও উল্লেখ করেন। ওই আইনের একটি বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে এক বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমিতে নিজস্ব বসবাসের জন্য সর্বোচ্চ দুইতলা বাড়ি নির্মাণে ডেপুটি কমিশনারের আগাম অনুমতি প্রয়োজন হয় না। তবে প্রতিটি বাড়ি ওই আইনের সব শর্ত পূরণ করেছিল কি না, সে বিষয়ে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি।
১১ সেপ্টেম্বরের আদেশে আদালত জানায়, প্রশাসনের দেওয়া তথ্যের প্রাথমিক পর্যালোচনায় উচ্ছেদের জন্য কোনো আসন্ন বিপদের বিষয় স্পষ্ট হয়নি এবং ২০০৫ সালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনের ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে বলে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গোয়ালপাড়ার জেলা প্রশাসক ও মাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তাকে পৃথক হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্ছেদের ফলে আর্থিক ও বস্তুগত ক্ষতির বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগীদের অতিরিক্ত হলফনামা দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আদালত পরবর্তী শুনানি ১৩ অক্টোবর নির্ধারণ করেছেন এবং ততদিন সংশ্লিষ্ট জমিতে আর কোনো পদক্ষেপ না নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার