October 5, 2026, 2:24 pm

নিজ গ্রামে ফিরলেন মরিয়ম, দাফন সম্পন্ন শ্যামনগরে

মোঃ হাফিজুর রহমান, ক্রাইম রিপোর্টার (শ্যামনগর), সাতক্ষীরা

প্রায় এক দশক আগে ঘূর্ণিঝড় আইলায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন মরিয়ম খাতুন। দীর্ঘদিন পর জীবনের শেষ যাত্রায় আবারও নিজ গ্রামের মাটিতে ফিরতে হলো তাকে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের দাফন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গাবুরা ইউনিয়নের সরদারপাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়। ঢাকায় ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার রাতে তার মরদেহ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে ট্রলারে করে মরদেহ সরদারপাড়ায় পৌঁছায়। এ সময় বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ, মা, দাদি, নানি, ফুপা, ফুপি, ছোট চাচা মোতাসিম বিল্লাহসহ পরিবারের স্বজনরা সঙ্গে ছিলেন। দাফনের বিষয়টি শ্যামনগর থানার ওসি শফিউল আলম পাটোয়ারী নিশ্চিত করেছেন।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। পরে গাবুরা পশ্চিমপাড়া সরদারবাড়ি জামে মসজিদের পাশে মরিয়মের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুল হুদা জানাজায় ইমামতি করেন। এতে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এবং শ্যামনগর থানার এসআই অনিরুদ্ধ রায় ও বদিউজ্জামানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। জানাজার আগে ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা মরিয়মের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও ওবায়দুল্লাহকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেওয়া হয় এবং আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেউ দায়ী থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আইলার পর পরিবারটি প্রথমে শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর ও পরে যশোরের নওয়াপাড়ায় বসবাস করে; প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর আগে তারা ঢাকায় স্থায়ীভাবে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই শেকড়ের গ্রামেই মরিয়মের শেষ ঠিকানা হলো।



ফেসবুক কর্নার