October 5, 2026, 3:15 am

গাজায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, চাপা পড়ে আছে হাজারো মরদেহ

অভয়নগর প্রতিবেদক

 

ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় জমেছে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, যার নিচে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষের মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। জাতিসংঘের হিসাবে, এই ধ্বংসস্তূপ অপসারণে অন্তত ৭ থেকে ১০ বছর সময় লাগতে পারে এবং ব্যয় হবে শত শত কোটি ডলার। গত দুই বছরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ৫৮০ কিলোমিটার রাস্তা পরিষ্কার করে প্রায় ৯ লাখ ৭ হাজার টন ধ্বংসস্তূপ সরিয়েছে। তবে তা মোট ধ্বংসস্তূপের মাত্র দেড় শতাংশ।

ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা। ফলে ইউএনডিপি গাজাজুড়ে পাঁচটি ক্রাশিং সাইটে পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ পুনর্ব্যবহারের কাজ করছে। লোহা ও রড আলাদা করার পর কংক্রিট ভেঙে ছোট টুকরো করা হচ্ছে। এসব উপকরণ দিয়ে রাস্তা মেরামত ও গর্ত ভরাটের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবুর নিচেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে যন্ত্রপাতির খুচরা অংশ ও ইঞ্জিন অয়েলের সংকটে কাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টিও অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ইউএনডিপি ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি যৌথভাবে মরদেহের অবস্থান শনাক্ত, পরিচয় নিশ্চিত ও ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের কাজ করছে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে অবিস্ফোরিত বোমা, অ্যাসবেস্টসের ধুলো ও ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা ভবন উদ্ধারকর্মী ও বাসিন্দাদের জন্য হুমকি তৈরি করছে। জাতিসংঘের মাইন অ্যাকশন সার্ভিস ও ব্রিটিশ সংস্থা হ্যালো ট্রাস্ট ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করছে। সংকটের মধ্যেও ধ্বংসস্তূপ সরানোয় কিছু এলাকায় যান চলাচল ও ক্ষুদ্র ব্যবসা পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হয়েছে।



ফেসবুক কর্নার