
সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনায় বসার চেষ্টা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের কর্মকর্তারা পৃথকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আলোচনায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বাইরে গত সপ্তাহে ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের সংশোধিত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিউইয়র্কে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষায় আছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় চালুর শর্ত নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের জবাব প্রত্যাশা করছে তেহরান। আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তাহলে ইরান সেই সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের প্রস্তাবে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ, ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদের ওপর জব্দাদেশ প্রত্যাহার, তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সোমবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল বা ধ্বংসের বিষয়েও দুই পক্ষ নতুন করে আলোচনা করতে পারে। এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কথা জানিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এপ্রিল ও জুনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুইবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও দুবারই তা দ্রুত ভেঙে যায়।