ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর ও আশপাশে তিন দিনের তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৭০০ জনের বেশি আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সরকারি বাহিনী আঞ্চলিক যোদ্ধাদের কাছ থেকে আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শহরের রাস্তায় সেনাবাহিনীর ট্যাংক দেখা গেছে। টাইগ্রের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কয়েক মাসের উত্তেজনা গত সপ্তাহে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষের প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান লালিবেলায় এখনো ৩৩ জন পর্যটক আটকা রয়েছেন। বিমানবন্দর বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ থাকায় বেশির ভাগ পর্যটক শহরটি ছাড়তে পারেননি। তবে সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। লালিবেলায় থাকা এক ব্রিটিশ পর্যটক জানান, তারা সপ্তাহজুড়ে লড়াই, গুলির শব্দ ও ভারী কামানের গোলার শব্দ শুনেছেন। এদিকে ইথিওপিয়া সরকার ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার অভিযোগ করলেও ইরিত্রিয়া তা অস্বীকার করেছে।
টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় টাইগ্রের পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবে জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংঘর্ষ শুরুর জন্য টাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) ও ইথিওপিয়ার সরকার একে অপরকে দায়ী করছে। মেডসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে টাইগ্রেতে তাদের সহায়তা পাওয়া হাসপাতালগুলোতে ৭০০ জনের বেশি আহত মানুষ ভর্তি হয়েছেন। সংঘর্ষে আবাসিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও টাইগ্রে থেকে অন্যত্র চলে যাওয়া মানুষজনও অর্থ লেনদেনে সমস্যায় পড়েছেন।