
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মহানগরীর নাওজোর, কোনাবাড়ী, ভোগড়া বাইপাস, চৌধুরীবাড়ি এবং কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, মৌচাক, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ ও রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে জেলার ১৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।
সোমবার সকাল থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে কোনাবাড়ী ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা অর্ধশতাধিক যানবাহন ও দোকানপাট ভাঙচুর করেন। বেলা ১২টার দিকে ভোগড়া বাইপাসসহ কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। নাওজোর এলাকায় ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও জেলা পুলিশের একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। সালনা ও ছয়দানা মালেকের বাড়ি এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সফিপুরে ইটের আঘাতে এক বিজিবি সদস্য আহত হন। নাওজোর এলাকায় সময় টিভির রিপোর্টার মেহেদী হাসান ও ক্যামেরাপারসন আহত হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাশিমপুর থানা পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। কয়েকজন শ্রমিকের অভিযোগ, বহিরাগতরা আন্দোলনে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করছে। তাঁদের দাবি, প্রকৃত শ্রমিকরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সোমবার ১৫০টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় সকাল ১০টার দিকে বিভিন্ন স্থানে অবরোধকারীদের সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। তবে কিছু এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। এদিকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কালিয়াকৈর, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, ভোগড়া বাইপাস, নাওজোর ও চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থান নিয়ে ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মিছিল করেন। গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মেয়র মজিবুর রহমান নাওজোর এলাকায় শ্রমিকদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কারখানা ও যানবাহন ভাঙচুর থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। মহানগর বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বেও কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকায় মিছিল-সমাবেশ হয়। গত কয়েক দিন ধরে চলা শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে সরকার ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিলেও শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে কার্যকর করতে হবে।