কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটিয়ে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড,কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ গলি ও আশপাশের সড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর পথচারীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন—এই অভিযান কি স্থায়ী হবে?
আজ বৃহস্পতিবার ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে শহরের প্রধান ফুটপাত গুলো দখলমুক্ত করা হয়েছে। ভেড়ামারা বাস স্ট্যান্ড, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ গলি ও আশপাশের ব্যস্ত সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে দোকান, দ্রব্যসামগ্রী রাখা এবং অবৈধ স্থাপনায় ফুটপাত দখল হয়ে পড়েছিল। এতে পথচারীদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। রাস্তায় নেমে হাঁটার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে গিয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ড. গাজী আশিক বাহারের নেতৃত্বে এ অভিযানে ভেড়ামারা পৌরসভার সহযোগিতা নেওয়া হয়। দখলদারদের পূর্ব সতর্কতা দেওয়া সত্ত্বেও অবৈধ স্থাপনা না সরানোয় তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় রাস্তায় ট্রাক, অটোরিকশা, রিকশা ও পথচারীদের ভিড়ে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হয়, কিন্তু অভিযান শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। স্থানীয় পথচারীদের অনেকেই এ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক পথচারী বলেন, আজকে অভিযান দেখে ভালো
লাগছে। আশা করি এটা যেন স্থায়ী হয়।
ইউএনও রফিকুল ইসলাম বলেন, “জনসাধারণের চলাচলের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পৌরসভার সহযোগিতায় আমরা শহরকে আরও সুন্দর ও নিরাপদ করতে চাই।”
পৌরসভা সূত্র জানায়, অভিযানের পর ফুটপাতগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে পুনরায় দখল না হয়।
তবে স্থানীয়দের মধ্যে একটা সন্দেহ রয়েছে। ভেড়ামারা শহরের ফুটপাত দখলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, উচ্ছেদের পরও অনেক ক্ষেত্রে দোকানপাট আবার ফিরে আসে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আগেও এমন অভিযান হয়েছে, কিন্তু কয়েকদিন পর আবার পুরোনো অবস্থা। প্রশাসন যদি নিয়মিত তদারকি করে, তাহলে সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে।”
এ অভিযানকে অনেকে শহরের যানজট কমানো ও পথচারী-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন। ভেড়ামারা পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই অভিযান স্থায়ী ফল দিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।