March 6, 2026, 2:47 am
শিরোনাম :

রৌমারীতে পরিত্যক্ত ভবন যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’: দিনের আলোতে লুট, রাতে মাদকের স্বর্গরাজ্য

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের রৌমারী সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত সরকারি ভবন এখন সাধারণ মানুষের জন্য মূর্ত আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। রৌমারী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সিজি জামাল উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এবং মডেল মসজিদের উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত এই ভবনটি প্রশাসন অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সিলগালা করলেও বর্তমানে এটি অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় সন্ধ্যা নামলেই সেখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। বিড়ি-সিগারেট থেকে শুরু করে গাঁজা ও মদের আসর নিয়মিত জমে ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, ভবনটি নির্জন ও পরিত্যক্ত হওয়ায় মাদকসেবীরা এটিকে নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে করে পাশের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শুধু মাদকের আখড়াই নয়, ভবনটি এখন চোরচক্রেরও টার্গেটে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের জানালা-দরজা খুলে নেওয়ার পাশাপাশি ছাদের ঢালাই ভেঙে ভেতরের রড পর্যন্ত খুলে নেওয়া হচ্ছে। দিনের আলোতেই সংঘবদ্ধ একটি চক্র সরকারি সম্পদ লুটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
এদিকে দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ভবনের পাশেই প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় থাকায় বিরতি কিংবা ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের যাতায়াত থাকে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি সরকারি বিধি অনুযায়ী নিলামে বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় হবে, অন্যদিকে মাদকসেবী ও চোরচক্রের দৌরাত্ম্য থেকেও এলাকা মুক্ত হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে রৌমারীর সচেতন নাগরিক সমাজ স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জনস্বার্থে এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি দ্রুত অপসারণ বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।



ফেসবুক কর্নার