
গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তা না হলে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদ যে পথে হেঁটেছিল, বিএনপিও এখন সেই পথেই হাঁটছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার সবই রেখে দেওয়া হয়েছে। এটি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গণভোটের রায় মানে না, তারা গণতন্ত্রেও বিশ্বাস করে না। তারা গণতন্ত্রের শত্রু। গণভোট বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়বে। সরকারকে এটি বুঝতে হবে।”
জামায়াত আমির বলেন, “১৯৭১ থাকবে তার মর্যাদায়, ২০২৪ থাকবে ২০২৪-এর মর্যাদায়। জুলাইয়ের আন্দোলনের অর্জন আমরা হারিয়ে যেতে দেব না। জুলাইয়ের বীরদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে হবে।”
সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বরিশাল অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন বৈষম্য চলছে।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
তিনি বলেন, “ভাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তা হওয়ার পরও সড়কটি মাত্র দুই লেনের। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার এ সড়কের অবস্থাও বেহাল। ভোলা এখনও কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সেখানে রেললাইন কবে হবে, এ নিয়ে সরকারের জনপ্রতিনিধিদের কোনো বক্তব্য নেই। যেখানে বঞ্চনা, সেখানেই আমরা আছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোট বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকার বারবার সময়ক্ষেপণ করছে।
“নির্বাচনের আগে যেসব দল গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, এখন তারাই বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। জনগণ এ ধরনের টালবাহানা মেনে নেবে না,” বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদের আর কোনো জায়গা এ দেশে হবে না। যারা আবার স্বৈরশাসন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তাদের জনগণ প্রতিহত করবে। আমাদের আবার রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “‘লেগেছে রে, লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’—জুলাই আন্দোলনের এই স্লোগান আবার বাস্তবে পরিণত করার পরিস্থিতি তৈরি করবেন না।”
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে ৩১ দফা ও ১৮ মাসের মধ্যে বেকারত্ব দূর করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রতিটি বিভাগে সমাবেশ শেষে ঢাকায় কেন্দ্রীয় সমাবেশ হবে। এরপর জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কর্মসূচি চলবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে গণআন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের পথেই যেতে বাধ্য হব।”
১৮ জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত মুগ্ধ ও রিফাতসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ তাঁর বক্তব্যে ভারতের আগ্রাসন ও মুসলমানদের ওপর হামলার নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, “আল্লাহর নির্দেশ ও মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করেই আমরা চলব। উসকানির জবাব ধৈর্যের সঙ্গে দেওয়া হবে।”
এ সময় তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরে থাকা ‘তৈলমর্দনকারী’ গোষ্ঠী সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে সকাল থেকেই ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত হন। সমাবেশে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল।