সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। পাশাপাশি অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী বিভাগের জনবল সংকট ও নানাবিধ ঘুষ, দুর্নীতির কারণে বছরের পর বছর প্রকল্পের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ ধীরগতি আটকে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। উপজেলার উত্তর ভাড়া সিমলা, হোগলা, উত্তর তেতুলিয়া, বাবুরাবাদ, পিরোজপুর, ঘোজাডাঙ্গা, সোনাতলা, ফতেপুর, কালিকাপুর, থালনা, বাথুয়াডাঙ্গা, জাফরপুর সহ একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা ও তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে প্রাথমিকের দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ডিজাইনের ভবন নির্মাণের ফলে গ্রামীণ শিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তনের এসেছে। ২০১৯ সাল হতে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৫৩ কোটি, ৫৯ লক্ষ, ৫৪ হাজার, ১০৪ টাকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থে বরাদ্দে মোট ৭৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরমধ্যে চাহিদা ভিত্তিক জাতীয়করণ কৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প (এন বি আই ডি জিপিএস) প্রকল্পে ১৫ কোটি, ১ লক্ষ, ৪ হাজার, ৬০০ টাকায় ১৮ টি বিদ্যালয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চাহিদাভিত্তিক নতুন জাতীয়করণ কৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্পে (এন বি আই ডি এন এন জি পি এস) ৪ কোটি, ৯৮ লক্ষ, ৮৩ হাজার, ৬০৯ টাকায় বরাদ্দে ৭ টি বিদ্যালয় ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) অধীনে ৩৩ কোটি, ৫৯ লক্ষ, ৬৫ হাজার টাকার বরাদ্দে ৪৯ টি বিদ্যালয় ভবনের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্মাণাধীন মুড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন, কাটুনিয়া মাদ্রাসা ভবন সহ একাধিক ভবনের কাজ জনবল সংকটের অজুহাত সহ নানান দুর্নীতির কারণে ঠিকাদারি কাজে ধীরগতিতে বছরের পর বছর পড়ে থাকলেও খোজ বা দেখার কেউ নাই। যে কারণে সাতক্ষীরা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রিপন বিশ্বাসের নামে প্রতিদিন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ফলাও ভাবে দুর্নীতির সচিত্র প্রতিবেদন ধারা বাহিক ভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সহকারি প্রকৌশলী রিপন বিশ্বাসের নিকট জানতে চাইলে তিনি জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে ফোন কেটে দেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি দুর্নীতি রোধে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রকৌশলী বিভাগে বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজ এলজিইডিতে হস্তান্তর করা হোক। এ ব্যাপারে কালিগঞ্জ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি দৈনিক অভয় নগরকে জানান আমি এবং আমার অফিসের সহকারী প্রকৌশলীরা কঠোর পরিশ্রম, পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কাজগুলো ভালো করা ও দায়িত্ব পালনের শতভাগ চেষ্টা করেছি। আপনাদের নজরদারি ও সহযোগিতায় সার্বিক এ সফলতা উঠে এসেছে। আমরা আগামীতে ও এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে চাই। কালিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির কাজের সাফল্য তুলে ধরে সচেতন মহলের দাবি আধুনিক দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো পুরানো জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘর ভেঙ্গে এলজিইডি আধুনিক মজবুত দ্বিতল, তৃতীয় তলা ভবন তৈরি করেছে যা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় মুখি করেছে।
শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সাতক্ষীরা জেলা সহ সারা দেশে নির্মিত এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ভবনগুলো মানসম্পন্ন, শিক্ষাদানের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। আগামীতে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাক এ দাবি সচেতন মহলের।