
রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলাটি করেন ওবায়দুর রহমান। এজাহারে তাকে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোস্তাসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসান।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, পল্লবীর কালশী এলাকার একটি ভবনে অবস্থানের সময় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিবারের এক তরুণীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। পরে বিষয়টি পরিবারকে জানানো এবং ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করায় তাকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুর রহমান।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বাদীর ওপর সন্দেহ তৈরি হয়। গত ১৪ জুলাই আমিনুর রহমান তাকে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে মারধর এবং গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওবায়দুর রহমান পরে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এজাহারে করা অভিযোগগুলোর সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এদিকে ব্যক্তিগত ভিডিওকে কেন্দ্র করে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে তদন্তের পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গত ২২ জুলাই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
হাইকোর্টের আট সপ্তাহের আগাম জামিনের ফলে আপাতত মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবে এতে মামলা থেকে অব্যাহতি বা অভিযোগ থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।