March 7, 2026, 7:11 am

পরিকল্পনার ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করলেই জনসমর্থন মিলবে: টাইমকে তারেক রহমান

অভয়নগর প্রতিবেদক

১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরার পর এটিই তার প্রথম আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার, যা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন। প্রায় ৩,৩০০ শব্দের এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, তার পরিকল্পনার মাত্র ৩০ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারলেও জনগণের সমর্থন পাওয়া সম্ভব। তিনি নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও কাজকেন্দ্রিক মানুষ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, তিনি খুব বেশি কথা বলেন না, তবে দায়িত্ব পেলে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন।

দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় মাকে হারানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হৃদয় ভারাক্রান্ত হলেও দায়িত্ব পালনের শিক্ষা তিনি মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছেন। তার ভাষায়, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং জনগণের আস্থাই তার রাজনীতিতে থাকার প্রধান কারণ।

টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান এগিয়ে থাকা প্রার্থী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপির প্রতি প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখা গেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন মাত্র ১৯ শতাংশ।

তবে প্রতিবেদনে উদ্বেগের বিষয় হিসেবেও উঠে এসেছে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তারেক রহমান বলেন, সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং অন্তর্বর্তী সরকার সেগুলো বাতিল করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধ করলে বিচার হবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দিয়ে দেশ চালানো যাবে না।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক রিজার্ভ সংকট এবং যুব বেকারত্বকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে টাইম। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়াকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীতিগতভাবে তারেক রহমানকে একজন টেকনোক্রেটিক ধাঁচের রাজনীতিক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তার প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ঢাকায় সবুজ অঞ্চল তৈরি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে অংশীদারত্ব।

শেখ হাসিনার শাসনামলকে স্বৈরাচারী আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদনে রাজনৈতিক পরিবর্তন, ছাত্র আন্দোলন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান নিয়েও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সংস্কার প্রক্রিয়া এখনো অসম্পূর্ণ এবং নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ কোন পথে যাবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে তারেক রহমান সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ ও ব্যবসা যেন নিরাপদে থাকতে পারে, সেটাই মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করে তিনি সতর্ক করেন, আজ কাউকে নিষিদ্ধ করলে কাল অন্য কেউও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

প্রতিবেদনের শেষাংশে স্পাইডার-ম্যান সিনেমার সংলাপ উদ্ধৃত করে তারেক রহমান বলেন,
“বড় ক্ষমতার সঙ্গে বড় দায়িত্বও আসে। আমি মনেপ্রাণে এটি বিশ্বাস করি।”



ফেসবুক কর্নার