March 7, 2026, 7:34 am

চুরি-দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে: জামায়াত আমির

অভয়নগর প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের চেহারা বদলে যাবে। তবে দেশ যদি আবার অপশাসনের কবলে পড়ে, তাহলে আরও ৫০ বছরেও জাতির ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে (মিরপুর-কাফরুল) ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের গণসংযোগ ও পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভিক্ষুক ও বাড়ির মালিক পর্যন্ত সবাই চাঁদাবাজির শিকার। তিনি বলেন, দুনিয়ার সবাই চাঁদাবাজি করে জীবন চালায় না। জাতি শান্তি ও মুক্তি চায়। তাই আর জনগণকে জ্বালাতে না চাঁদাবাজদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশে সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। সেবা নিতে গেলেই ঘুষ বা চাঁদা দিতে হয়। বিচার ঠিক না থাকায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অপরাধ বাড়ছে। বিচার সঠিক হলে এসব অপরাধের সুযোগ থাকত না। তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ভ্যানচালক পর্যন্ত সবাই আইনের সমান অধীন, অপরাধ করলে কেউই রেহাই পাবে না।

শিশুদের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, শিশুরা জাতির সম্পদ। সুশিক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তারাই একদিন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। বস্তিতে জন্ম নেওয়া কোনো হালাল রুজির পরিবারের শিশুও মেধা ও সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। সে ধরনের দেশ ও শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

নারী ও শিশু নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মায়েরা ঘরে ও বাইরে সর্বত্র নিরাপত্তা পাবেন। শিশুদের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর সুযোগ থাকবে না। কারণ সবাই হবে দায়িত্বশীল নাগরিক এবং কেউ অপরাধ করে পার পাবে না।

১২ ফেব্রুয়ারির ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এদিন দুটি ভোট হবে। “হ্যাঁ” ভোট মানে ফ্যাসিবাদকে না বলা। যারা চান না বাংলাদেশ কোনো গোষ্ঠীর রাজ্যে পরিণত হোক, তারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। তিনি সবাইকে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি পরিবর্তন চায়। ৫৪ বছরের পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতির পুনরাবৃত্তি যারা চান না, তারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। তার ভাষায়, “হ্যাঁ মানে আজাদি, না মানে গোলামী।”

ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ এলাকায় রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, খোলা ও পচা ড্রেন, মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাব, মাদক ও সন্ত্রাস—সব সমস্যাই বিদ্যমান। জনগণ আস্থা রাখলে এসব সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা জনগণের সেবক হবো, মালিক নই। জনগণের সম্পদের প্রতিটি পয়সার হিসাব দেওয়া হবে। দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকারভাতা নয়, যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ পরিচালনায় যুবকদের প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান তিনি এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লস্কর মো. তসলিম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।



ফেসবুক কর্নার