March 7, 2026, 5:48 am
শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ডাকসু নেতা সর্বমিত্রের ফেসবুক স্ট্যাটাস জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানোর অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ইরানে এ যাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’, সময় জানালেন মার্কিন মন্ত্রী দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৯ লাখ টাকার মাদক ও ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব অর্থনীতির ধমনীতে ইরানের সতর্কবার্তা কক্সবাজারে  তরুণীকে ধর্ষণ আটক ৩  এনসিপিতে ভাঙনের আভাস, পদত্যাগ করলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক কলিন্স চাকমা সাংবাদিকদের ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বিজয়নগরে গরু-মহিষ চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় খামারিরা আতঙ্কিত

১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন: নাহিদ ইসলাম

অভয়নগর প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোট গঠন করা হলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই থেমে যায়নি। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ভেতরে থেকেই এনসিপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্ম হয়েছে, সেই দল আজ একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, দল গঠনের শুরুতেই এনসিপি কিছু প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাপত্র দিয়েছিল, যা গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গেই যুক্ত।

তিনি বলেন, আমাদের নেতৃত্ব, চিন্তা ও আদর্শ—সবকিছুই গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে এসেছে। আগস্টে শহীদ মিনারে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার কথা। গত ১৬ বছরে এবং স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তা আমাদের প্রকৃত গণতন্ত্রে পৌঁছাতে দেয়নি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে সেই ব্যবস্থার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেছে। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে, জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে জনগণ রাজপথে নেমে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে এমন একটি নতুন বন্দোবস্ত দরকার, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।

তিনি বলেন, এই নতুন বন্দোবস্ত গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান করে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে মর্যাদার সঙ্গে দাঁড় করাবে।

জোট রাজনীতি নিয়ে ওঠা সমালোচনার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, পুরোনো দলগুলোর সঙ্গে জোট করায় এনসিপি তার লক্ষ্য থেকে সরে এসেছে—এমন প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই জোট মূলত একটি নির্বাচনী জোট এবং কিছু ন্যূনতম রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এটি গঠিত। সংস্কারের দাবি থেকে এনসিপি একচুলও সরে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনসিপির মূল লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক পরিবর্তন। নতুন সংবিধানের দাবি থাকলেও কমিশনের মাধ্যমে সংস্কার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে নতুন বন্দোবস্তকে তারা দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম হিসেবেই দেখছে, যা সময়ের সঙ্গে অর্জন করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই সময়ে কিছু সুযোগ হাতছাড়া হলেও অনেক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংস্কারের বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনের পর গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথ তৈরি করবে।

ইশতেহারের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪-এর একটি নতুন প্রজন্ম রাজনীতিতে আবির্ভূত হয়েছে। এই তারুণ্যকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই এনসিপির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নাগরিক ও জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় নাগরিক অধিকার, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে নাগরিক মর্যাদা ও জাতীয় মর্যাদা—এই দুটি বিষয় এনসিপির রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে। একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গড়তে হলে দেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তারুণ্য ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এনসিপির ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে, সেই সরকারের অংশীদার হিসেবে মন্ত্রিসভা ও সংসদে কোন কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, ইশতেহারে তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।



ফেসবুক কর্নার