
ঝিনাইদহের শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ দেশের বিচারিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন নিশ্চিতকরণে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনি স্থায়িত্ব দিতে সেগুলো বিল আকারে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। সাম্প্রতিক ‘তাবাসসুম হত্যাকাণ্ড’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধী এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তার এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার সঞ্চার হয়।
সফরকালে তিনি কেবল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং ঝিনাইদহের অন্যান্য সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ তার দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
উল্লেখ্য, খুলনা বিভাগের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে একনেক (ECNEC) সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আসাদের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। স্থানীয় সুধীমহল মনে করছেন, তার এই দায়িত্বপ্রাপ্তি অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতা তার নতুন দায়িত্বে শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, সুশাসন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় তার নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।