March 12, 2026, 1:20 pm
শিরোনাম :
মন্ত্রী হলেন আহমেদ আযম খান চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভারতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপসহ আটক ১ বান্দরবানে ‘পুলিশ সুপার ক্যারাম টুর্নামেন্ট-২০২৬’ এর উদ্বোধন ঘাট পরিদর্শনে ইউএনও অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার অনুরোধ  হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন সতর্কবার্তা ইরানের বান্দরবানে অবাধে গর্জন গাছ নিধনের অভিযোগ, বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘ম্যানেজ’ করার কথা বলছে স্থানীয়রা দ্বিতীয় দিনের মতো কমলো স্বর্ণের দাম ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে নগদ টাকার পাহাড়: এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২ লাখ কোটি গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে ব্যাপক হামলা, আহত ১৭৯ নলডাঙ্গায় পুকুর খনন সিন্ডিকেটে জ্বালানি সংকট, শস্য উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

নলডাঙ্গায় পুকুর খনন সিন্ডিকেটে জ্বালানি সংকট, শস্য উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

অভয়নগর প্রতিবেদক

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় অবৈধ পুকুর খনন সিন্ডিকেটের কারণে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ইরি ধান চাষের ভরা মৌসুমে কৃষকরা সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না, ফলে শস্য উৎপাদন নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, একজন কৃষক ছোট একটি সেচ স্কিম পরিচালনা করতে প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে ৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের ১ থেকে ২ লিটারের বেশি ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। অথচ অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ভেকু, ট্রাক্টর ও ট্রলিতে শত শত লিটার ডিজেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়া, মাধনগর ও খাজুরা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। কৃষক নজরুল ইসলাম ও ফিরোজ প্রামাণিক জানান, কৃষিকাজের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অথচ পুকুর খননের কাজে নির্বিঘ্নে জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে নলডাঙ্গায় কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬৫ হেক্টর, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৬০ হেক্টরে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম গভীর জলাশয় হালতিবিলও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই নির্বিচারে পুকুর খনন ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে আবাদি জমি কমে যাচ্ছে এবং অনেক স্থানে স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে হালতিবিলের মাঝখানে স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও মাছের প্রজননও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। বর্ষা মৌসুমে শতাধিক দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই বিলের ওপর নির্ভর করে বহু মানুষের জীবিকা।
নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী বলেন, কৃষিজমিতে পুকুর খনন আইনত নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল এমরান খান জানান, কৃষিজমি খনন করে পুকুর তৈরি করা যাবে না। মাটি কাটার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে এলাকাবাসী ও কৃষকদের দাবি, কৃষিজমিতে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে হালতিবিল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।



ফেসবুক কর্নার