
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। ফলুয়ার চর ঘাট থেকে নটারকান্দি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত ও কার্যকর নদী শাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রৌমারী উপজেলার বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে ইতোমধ্যে বহু বসতভিটা, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অনেকেই অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, বর্তমান ভাঙনের গতি উদ্বেগজনক। এখনই স্থায়ী নদী শাসনের ব্যবস্থা না নিলে কয়েক বছরের মধ্যেই নদী উপজেলার মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি চলে আসবে। এতে রৌমারীর ঐতিহ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং হাজারো মানুষের বসতভিটা হুমকির মুখে পড়বে।
ভাঙনকবলিত বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন, নদীভাঙনে তার সব জমিজমা ও বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে অন্যের জমি বন্ধক নিয়ে পরিবারসহ বসবাস করছেন। একইভাবে মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, নদী তাদের সাজানো সংসার কেড়ে নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মাহবুব আলম বলেন, ফলুয়ার চর থেকে নটারকান্দি পর্যন্ত নদী শাসনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সংসদ সদস্য অবগত রয়েছেন। বিষয়টি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, কাগুজে আশ্বাস নয়, রৌমারীকে রক্ষায় অবিলম্বে ব্লক পিচিংসহ স্থায়ী নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে ভাঙনকবলিত পরিবারের পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রৌমারীবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ব্রহ্মপুত্রের আগ্রাসন থেকে উপজেলার ভৌগোলিক অস্তিত্ব ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করবে।