ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে নানা অনিয়ম ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মী (সুইপার) হিসেবে কর্মরত জনিত কুমার দাসকে চালকের দায়িত্ব দিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনা করা হচ্ছে। এই সুযোগে সরকারি সেবাকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করে রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স চাইলে নানা অজুহাত দেখিয়ে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কখনো গাড়ি নষ্ট, কখনো বাইরে রয়েছে—এমন কথা বলে সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরে রোগীর স্বজনদের হাতে জনিত কুমার দাসের ছেলে এম.ডি. শুভর নামে ছাপানো একটি ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয়। এরপর একই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে প্রাইভেট সেবার নামে বেশি ভাড়া আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী সলেমানপুর গ্রামের গৌতম ঘোষ জানান, গত ২৯ জুলাই স্ত্রী তীথি ঘোষকে চিকিৎসার জন্য যশোরে নিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেন। চালক তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ২ হাজার ২০০ টাকা পরিশোধ করেন। তবে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ করেন বিদ্যাধরপুর গ্রামের মাসুদ। তিনি বলেন, দাদি আনোয়ারা বেগমকে যশোরে নেওয়ার সময় ১ হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হলেও কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি।
মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাহফুজ জানান, তার বাবা আব্দুল মজিদকে যশোরে নেওয়ার সময়ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু কোনো সরকারি রশিদ দেননি।
স্থানীয়দের দাবি, কোটচাঁদপুর থেকে যশোর পর্যন্ত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ৯০০ টাকা। অথচ বিভিন্ন রোগীর কাছ থেকে তার দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি তেল অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জনিত কুমার দাস বলেন, তিনি ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত। চালকের সংকট থাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকার কারণে তাকে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভারপ্রাপ্ত চালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
তার ছেলে এম.ডি. শুভ বলেন, তাদের নিজস্ব কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। তিনি বাবার সঙ্গে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সহকারী হিসেবে থাকেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, কোটচাঁদপুর থেকে যশোর পর্যন্ত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ৯০০ টাকা এবং তা সরকারি রশিদের মাধ্যমে আদায় করার নিয়ম। হাসপাতালের নিজস্ব চালক না থাকায় সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জনিত কুমার দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, জনিত কুমার দাস মূলত তার কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মী। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকায় সাময়িকভাবে তাকে অ্যাম্বুলেন্স চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় এমন অভিযোগের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানিয়েছেন।