August 7, 2026, 10:53 am
শিরোনাম :
চুরির সাক্ষী হওয়ায় শিশু রাজু হত্যা, দেড় দিন পর ধানখেত থেকে মরদেহ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ২ জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণে তৃণমূলের ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোকে শুদ্ধ নেতৃত্বের আয়ত্তে নিতে হবে — পীর সাহেব চরমোনাই ৫ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখতে হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সকালে দুই জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু: সিলেটে ৯ ও বগুড়ায় ৭ জন নিহত র‍্যাবের অভিযানে ফেন্সিডিলসহ আটক ২ চাঁদপুরে ৪ ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলি, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ বস্তিতে কেটেছে শৈশব, আজ মুম্বাইয়ের দুই বিলাসবহুল বাড়ির মালিক ২০৩২ সাল পর্যন্ত রিয়ালেই থাকছেন ভিনিসিয়ুস

চুরির সাক্ষী হওয়ায় শিশু রাজু হত্যা, দেড় দিন পর ধানখেত থেকে মরদেহ উদ্ধার; গ্রেপ্তার ২

সাজাহান আলী

বগুড়ার শেরপুরে অটোভ্যান চুরির একমাত্র সাক্ষী হয়ে যাওয়ায় সাত বছর বয়সী শিশু রাজুকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। নিখোঁজের প্রায় দেড় দিন পর সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অটোভ্যান চুরি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় শেরপুর থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মইনুদ্দীন।
নিহত রাজু (৭) শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের জনক আলমের ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর উপজেলার রানীরহাট বাজার থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৪ আগস্ট একই গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে মুস্তাকিম (২৪) রাজুকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাজু মাঝে-মধ্যে মুস্তাকিমের ভগ্নিপতির মালিকানাধীন ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালিয়ে কৃষিকাজে সহযোগিতা করত। পুলিশ বলছে, অটোভ্যানটি চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন মুস্তাকিম। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় রাজুকেও সঙ্গে নেওয়া হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওসি এসএম মইনুদ্দীন জানান, চুরি করা অটোভ্যানটি মির্জাপুর এলাকার পুরোনো অটোভ্যান কেনাবেচার ব্যবসায়ী নায়েব আলীর ছেলে করিমের কাছে বিক্রির চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাজুকে সঙ্গে দেখে করিম আপত্তি জানান। পরে অটোভ্যান চুরির একমাত্র সাক্ষী হওয়ায় রাজুকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর অভিযুক্তরা তাকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের একটি ধানখেতে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখে।
রাজুকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে মুস্তাকিমের বাড়িতে যান। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজুর বাবা জনক আলম শেরপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ি থেকে মুস্তাকিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করিমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকেই তাড়াশ উপজেলার বড়ইচড়া গ্রামের ধানখেত থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, করিমের শ্বশুরবাড়ি থেকে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় রাখা চুরি হওয়া অটোভ্যানের চারটি ব্যাটারি, দুটি চাকা, চেসিস ও একটি চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ চক্রবর্তী জানান, শিশুটির মাথা কাদামাটির নিচে চাপা অবস্থায় ছিল। মরদেহে পচন ধরেছিল এবং বাঁ পায়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যা বা রাতেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাজুর মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী প্রধান অভিযুক্ত মুস্তাকিমের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য ছিলেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মামলা গ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি এসএম মইনুদ্দীন বলেন, ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তদন্ত শুরু হয়। ৬ আগস্ট দুপুরে আনুষ্ঠানিক মামলা নেওয়া হয়। প্রায় দেড় দিনের মধ্যেই আসামি গ্রেপ্তার, মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি ‘ক্লুলেস’ অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদিন জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।



ফেসবুক কর্নার