
নারায়ণগঞ্জে মিশুক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক ওয়ালি উল্লাহকে (২০) হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ছিনতাই হওয়া মিশুক উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার শাহিন (৩১) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ শনিবার (৮ আগস্ট) এ তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সোনারগাঁ উপজেলার বড় আলমদী এলাকার আব্দুল লতিফের ছেলে আওলাদ হোসেন (২৬) এবং চরভুলুয়া (আলমদী) এলাকার মৃত আবদুস ছোবহানের ছেলে শাহিন (৩১)।
যেভাবে হত্যার ঘটনা
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ৫ জুলাই দুপুরে বাবার মিশুক নিয়ে চালানোর জন্য বাড়ি থেকে বের হন ওয়ালি উল্লাহ। এরপর তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন সোনারগাঁ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন।
৬ জুলাই বিকেলে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন এলাকায় রাস্তার পাশে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পরিবার। পরে ওয়ালি উল্লাহর বাবা মরদেহটি তার ছেলে হিসেবে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা হারুন রশিদ বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। ৭ জুলাই দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে তদন্তে অগ্রগতি
পিবিআই জানায়, মামলাটি তদন্তের জন্য গত ৩ আগস্ট অধিগ্রহণ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান এসআই পুলক সরকার। এরপর তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট যাতায়াতের পথ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে ২ আগস্ট রাতে সোনারগাঁয়ের বড় আলমদী এলাকা থেকে আওলাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে আলমদী এলাকা থেকে শাহিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মিশুক ও মোবাইল উদ্ধার
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ আগস্ট বিকেলে শাহিনের বসতঘর থেকে ওয়ালি উল্লাহর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ও একটি বাংলালিংক সিম উদ্ধার করা হয়।
এরপর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৭ আগস্ট রাতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া মিশুকটি উদ্ধার করা হয়।
পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়া নেওয়া হয় মিশুক
তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার দুজনসহ আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মিশুকটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ওয়ালি উল্লাহকে ভাড়া করেন। তারা সোনারগাঁয়ের বারদী অটোস্ট্যান্ড থেকে আড়াইহাজারের সুলতানশাদী বাজারে যাওয়ার কথা বলে মিশুকটি ভাড়া নেয়।
পিবিআইয়ের তথ্যমতে, সুলতানশাদী বাজারে যাওয়ার পর ফেরার পথে চালককে উচিতপুরা ইউনিয়নের গ্রুপদী গ্রামের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যা করে মিশুক ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে মিশুকটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর এলাকায় নিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আদালতে স্বীকারোক্তি
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার সকালে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় শাহিন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।