
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র পেলেও হাসপাতালের ফার্মেসিতে সব ওষুধ না থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. রেজাউল করিম জানান, ১২ আগস্টের আগে হাসপাতালে ওষুধের সরবরাহ ছিল না। ১৬ আগস্ট থেকে সরবরাহ শুরু হলেও প্যারাসিটামল সিরাপসহ সব ধরনের ওষুধ চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যায়নি। ইনজেকশনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ঘাটতি। তিনি জানান, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রায়ই রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা সমন্বয় করে দিতে হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং জানান, কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে। হাসপাতাল থেকে ৮০টি আইটেমের ওষুধের চাহিদা পাঠানো হলেও ৬১টি আইটেম আংশিকভাবে সরবরাহ পাওয়া গেছে। সরকারি ইডিসিএল থেকে ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়, ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল এই হাসপাতালে রোগীর চাপ ও ওষুধের চাহিদা বিবেচনায় সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে ওষুধের সরবরাহ পাওয়া গেলে সংকট অনেকটাই কমে আসবে।