August 23, 2026, 6:54 am
শিরোনাম :
২০ মিটার নদীতে ১১৪ মিটার সেতু, নাজিরপুর প্রান্তে নেই সংযোগ সড়ক একই পরিবারের চার মরদেহ উদ্ধার, ডাকাতির সন্দেহে আটক ৩ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গার্ড অব অনার নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী খুলনায় পিস্তল, গুলি ও চোরাই মোটরসাইকেলসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের কথা জানাল ইসি কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ডে সাংবাদিকসহ ছয় বাংলাদেশির মরদেহ দেশে জেন-জি’র মন জয়ে ইনস্টাগ্রামে রিলস ও অনানুষ্ঠানিক কনটেন্টে মোদি ভিন্নমত মানেই শত্রুতা নয়, সহনশীলতার আহ্বান বাঁধনের কাঁচপুরে যাত্রীবাহী বাসে গাঁজাসহ, চালক-হেলপার গ্রেপ্তার

২০ মিটার নদীতে ১১৪ মিটার সেতু, নাজিরপুর প্রান্তে নেই সংযোগ সড়ক

জহির রায়হান, স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুর

পিরোজপুরের নাজিরপুর ও বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মরা বলেশ্বর নদীর ওপর প্রায় ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি আর্চ সেতু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর প্রশস্ততা যেখানে প্রায় ২০ মিটার, সেখানে ১১৪ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়। এর পাশাপাশি নাজিরপুর প্রান্তে সেতুর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো কোনো চলাচল উপযোগী পাকা বা প্রশস্ত সংযোগ সড়কও নেই। কচুয়া উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন সেতুটির দৈর্ঘ্য ১১৪ মিটার এবং প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে ‘এআরসি’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালামের দাবি, সেতুর প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সরেজমিনে নাজিরপুর প্রান্তে সেতুর মুখ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সংযোগ সড়কের অবকাঠামো দেখা যায়নি। নদীর তীর পর্যন্ত থাকা সরু পথ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল সম্ভব নয় বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, নদীর যে অংশের প্রশস্ততা প্রায় ২০ মিটার, সেখানে কেন ১১৪ মিটার দীর্ঘ আর্চ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। বাগেরহাটের কচুয়া অংশে নদীর ওপারে প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত পাকা সড়ক থাকলেও নাজিরপুর প্রান্তে সেতু পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সড়ক নেই। তাদের মতে, দুই এলাকার যোগাযোগ সহজ করার উদ্দেশ্যে সেতুটি নির্মাণ করা হলে উভয় প্রান্তে কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি প্রত্যাশিত জনসেবা দিতে পারবে না। সেতুটির অবস্থান ও প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রশাসনিক এখতিয়ার নিয়েও ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ জানান, ম্যাপ অনুযায়ী নদীর একটি অংশ বাগেরহাট জেলার মধ্যে পড়ায় বাগেরহাট থেকেই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। অন্যদিকে নাজিরপুর উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তারা প্রকল্পটি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নন বলে জানিয়েছেন। কচুয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আসিফ এহসান জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং প্রকল্পটির অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁর ধারণা নেই।
নির্মাণকাজে পাথরের পরিবর্তে ইটের ঢালাই, নিম্নমানের রড ব্যবহার এবং পাইলের নির্ধারিত দৈর্ঘ্য না দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কাছে নির্মাণকাজের সিডিউল দেখতে চাওয়া হলেও তা দেখানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক প্রস্তাবে সেতুটি এত দীর্ঘ ছিল না; পরবর্তী পর্যায়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প ক্যাটাগরিতে এর আকার পরিবর্তিত হয়েছে। সেতু নির্মাণের পর দুই পাশে সংযোগ সড়ক করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সংযোগ সড়ক কবে নির্মাণ হবে এবং এর জন্য আলাদা বরাদ্দ বা প্রকল্প রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাবেক সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগটি আপাতত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, অনুমোদন প্রক্রিয়া, নির্মাণমান এবং সংযোগ সড়কের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত নাজিরপুর প্রান্তে সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।



ফেসবুক কর্নার