
ভারতীয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এ ‘জরিনা’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান বাঙালি অভিনেত্রী অনংশা বিশ্বাস। চরিত্রটির জন্য প্রশংসা পেলেও এর প্রভাব পড়েছে তার ব্যক্তিজীবনেও। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, সিরিজটির প্রথম সিজন মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল ও ইনবক্সে তাকে নানা ধরনের কুরুচিকর ও অনৈতিক বার্তার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।
অনংশা জানান, প্রথম দিকে বিষয়টি তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন ছিল। পর্দায় অভিনয় করা চরিত্রকে অনেকে তার বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতেন। ফলে তাকে সরাসরি অশোভন ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দেওয়া হতো। এমন আচরণে তিনি বিস্মিত ও হতাশ হয়ে পড়েন। তার ভাষ্য, নিজের কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করার পরও কেন তাকে এ ধরনের মন্তব্য ও প্রস্তাবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—সে প্রশ্ন তাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। অভিনয়ের চরিত্র এবং ব্যক্তিজীবনের মধ্যে যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, দর্শকদের সেই বিষয়টি বোঝার প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রী মনে করেন, পর্দার চরিত্রের সঙ্গে অভিনয়শিল্পীর বাস্তব জীবনকে এক করে দেখার মানসিকতা পরিবর্তন করা জরুরি। তার মতে, একজন শিল্পী যে চরিত্রে অভিনয় করেন, সেটি মূলত গল্পের প্রয়োজনেই নির্মিত; ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক নেই। এদিকে বড় পর্দায় মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। সিনেমাটিতেও ‘জরিনা’ চরিত্রে দেখা যাবে অনংশা বিশ্বাসকে। ছবিটি মুক্তির আগে পুরোনো অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করে অভিনয়শিল্পীদের প্রতি দর্শকদের আরও দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।