
ঝিনাইদহ সদর, কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফসলি জমি, জমির আইল, রাস্তার পাশ, পুকুরপাড় ও পতিত জমিতে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষতিকর আগাছা পার্থেনিয়াম। বিশেষ করে নেয়ামতপুর ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর থেকে যশোরের খাজুরা বাজার, কালীগঞ্জ-আড়পাড়া সড়ক, কালীগঞ্জ-বারবাজার, কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর এবং বারবাজার-চৌগাছা সড়কের বিভিন্ন স্থানে এর ব্যাপক বিস্তার দেখা গেছে। দ্রুত বংশবিস্তারকারী এ আগাছা ফসলের উৎপাদন ব্যাহত করার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিনে নরেন্দ্রপুর ও দিনোরমোড়সহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, ফসলি জমির আইল, পুকুরপাড় ও পতিত জমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে পার্থেনিয়াম গাছ জন্মেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আগাছাটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর বীজ বাতাস ও পানির মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠছে। বেথুলী গ্রামের কৃষক নিজাম ও আলী আকবর বলেন, জমিতে দেওয়া সার ও পানি ফসলের পাশাপাশি পার্থেনিয়ামও শোষণ করছে। ধান ও সবজি ক্ষেতের আইলে এত বেশি গাছ হয়েছে যে, নিড়ানি দিয়েও পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্থেনিয়াম একটি আগ্রাসী আগাছা, যা ফসলের সঙ্গে মাটি, পানি ও পুষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা করে। পাশাপাশি এর সংস্পর্শে মানুষের ত্বকে অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকেই এর ক্ষতিকর দিক না জেনে সাধারণ আগাছা মনে করে হাত দিয়ে পরিষ্কার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। ফয়লা ও রায়গ্রামের বাসিন্দারা ফুল ফোটার ও বীজ ছড়ানোর আগেই আগাছাটি নিরাপদভাবে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় যুবক মোমিন বলেন, কৃষকদের সচেতন করতে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা ও কার্যকর দমন কার্যক্রম প্রয়োজন। কৃষকদের সঠিক পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং পার্থেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কৃষি বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।