
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা পিডিবি কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আশরাফুল কবির ওরফে তনয়ের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়া, নারীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়া এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী নাছরিনের দাবি, ফেসবুকে পরিচয়ের পর তনয় বিদ্যুৎ অফিসে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেন। পরে ঢাকায় ভাইভা দেওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে মতিঝিলের একটি অফিসে যাওয়ার কথা জানিয়ে পান্থপথ এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাছরিনের অভিযোগ, ঘটনাটি ২০২৫ সালের নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ঘটে। ঘটনার পর বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য তনয় তাকে অনুরোধ করেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে চাকরি ও বিয়ের আশ্বাসে তাকে কয়েকদিন একটি বন্ধুর বাসায় রাখা হয়। একপর্যায়ে প্রাণ-আরএফএলের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করা হলেও কাজটি কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। অভিযোগকারীর দাবি, এরপর প্রায় আট মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত চাকরি বা বিয়ে কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি এবং নেওয়া তিন লাখ টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। তার কাছে তনয়ের সঙ্গে কথোপকথনের কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই ধরনের অভিযোগ আরও নারীর ক্ষেত্রে ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের দাবি উঠেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে আশরাফুল কবির তনয় বলেন, চাকরির সূত্রে ফেসবুকে নাছরিনের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, নাছরিনকে প্রাণ-আরএফএলে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তবে তিন লাখ টাকা নেওয়া বা কোনো অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে অর্থ লেনদেনের নথি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির তথ্য, হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, যাতায়াতের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অন্য কোনো নারী একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।