
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছেন মামলার বাদী ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে তিনি এ আবেদন করেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। নারাজি আবেদনের ওপর শুনানির জন্য আগামী ২০ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। ওই দিন বাদীপক্ষের সাক্ষীদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শুভ্র সিনহা রায় রনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নির্ধারিত তারিখে নারাজি আবেদনের বিষয়ে অধিকতর শুনানি হবে। ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া মাহবুব চৌধুরী ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে বাদীর ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তাঁর কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন। অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। পরে শাড়ি ফেরত চেয়ে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করলে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন বাদী।
নারাজি আবেদনে বাদীপক্ষ দাবি করেছে, তানজিন তিশার প্রভাবে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং মামলার সাক্ষীদের যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। আবেদনে আরও বলা হয়, বাদীর কাছে হুমকির অডিও রেকর্ড থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করেননি। মামলাটি তদন্ত শেষে গত ২৫ মে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এদিকে শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। গত বছরের ৫ নভেম্বর অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশনের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম মামলাটি করেন। ওই মামলায় গত ১৩ আগস্ট তিশা জামিন নেন এবং ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।