September 9, 2026, 9:52 am

২৬ বছর আগের মামলায় কারাগারে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ

অভয়নগর প্রতিবেদক

কিশোরগঞ্জে ২৬ বছর আগের ডাকাতি ও দ্বৈত হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে কারাগারে গেছেন ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন তিনি। তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার আবেদনও করেছিলেন নুর মোহাম্মদ। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর জানান, ওই আবেদনও আদালত নামঞ্জুর করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নিহত হন। ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে বিচার শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান। পরবর্তী সময়ে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত বিভিন্ন আসামির সাজা পুনর্নির্ধারণ করেন এবং নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতে নুর মোহাম্মদের পক্ষে আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ বলেন, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয় এবং বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ কারণে আপিলের শর্তে তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করা হয়। তবে আদালত শুনানি শেষে আবেদনটি নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নুর মোহাম্মদ এর আগে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পলাতক হন এবং মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন।



ফেসবুক কর্নার