
ঢাকার খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলাম নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামী সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর জব্দ করা সোহেলের মোবাইল ফোনে মুক্তাকে নির্যাতনের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মুক্তার ছোট ভাই তানভীর খিলক্ষেত থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সোহেলকে প্রধান আসামি করে আরও তিনজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব ভৌমিক জানান, সোহেলের মোবাইল ফোনেই ভিডিওটি পাওয়া গেছে। পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওতে মুক্তাকে মারধরের দৃশ্য রয়েছে এবং পাশের কক্ষে তাঁদের দুই সন্তানের কান্নার শব্দ শোনা যায়।
পুলিশ জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর সোহেল মুক্তার ভাই তারেক রহমানের কাছে ভিডিওটি পাঠিয়ে তাঁর বোনকে নিয়ে যেতে বলেন। এর দুই দিন পর, ৩ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের বাসায় গিয়ে মুক্তার স্বজনরা তাঁর মরদেহ দেখতে পান। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে মুক্তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে মনে হলেও নির্যাতনের ভিডিও পাওয়ায় ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল দাবি করেছেন, মুক্তা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে তিনি মুক্তাকে মারধর করেছিলেন বলেও দাবি করেন। তবে তাঁর এসব বক্তব্য এখনো যাচাই করা হয়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রায় সাড়ে সাত বছর আগে মুক্তা ও সোহেলের বিয়ে হয়। দুজনেরই বাড়ি বরিশালে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল প্রথমে মুদি দোকান পরিচালনা করলেও পরে এমব্রয়ডারি ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং এরপর পান-সুপারির ব্যবসা শুরু করেন। মুক্তার বড় ভাই তারেক জানান, প্রায় এক মাস আগে মুক্তা ও সোহেল মুন্সিগঞ্জের বাড়িতে যান। মুক্তা সেখানে ১৭ দিন থাকলেও সোহেল ছিলেন তিন দিন। ওই সময় সোহেল ব্যবসার জন্য তারেকের কাছে ৩ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। তারেক টাকা দিতে রাজি হলেও সোহেল বরিশালে ব্যবসা করার কথা বললে তিনি ঢাকায় ব্যবসা করার পরামর্শ দেন। তারেকের অভিযোগ, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোহেল তাঁর বোনকে হত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি; তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।