
হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিন বা পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ দাবি করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক করা ড্রোনটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এ যানটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে। মাইন শনাক্ত ও অপসারণ, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পানির নিচের কেবল ও পাইপলাইনের মতো অবকাঠামো পরিদর্শনে এটি ব্যবহার করা যায় বলে জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা মার্কিন চালকবিহীন সাবমেরিনটি আটক করেছে। ড্রোনটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরান। তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, একটি মার্কিন পানির নিচের ড্রোন আটকের আগেই বিকল হয়ে এক দিনেরও বেশি সময় পানিতে অচল অবস্থায় ছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ড্রোনটি ওই অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ড্রোনটি তুলনামূলক পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা ছিল না। পাশাপাশি এতে গোপন শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ফলে ইরানের হাতে পড়া ড্রোনটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনাকে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বহীন বলে দেখিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান ড্রোন আটকের ঘটনাকে তাদের নৌবাহিনীর সক্ষমতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে। দুই দেশের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।