খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে সরকারি সরবরাহে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী মজুত থাকার পরও রোগীদের সেগুলো না দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও রোগী ও স্বজনদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, সার্জারি ওয়ার্ড এবং প্রসূতি বিভাগের সিজারিয়ান রোগীদের সেলাইয়ের সুতা, ভায়োডিন, ব্যথানাশক ইনজেকশন, অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে বলা হচ্ছে। একটি সিজারিয়ান অপারেশনে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সামগ্রী কিনতে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাদিয়া সুলতানা নামে এক রোগীর স্বজন জানান, তার বোনের সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য বাইরে থেকে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। রোগী মো. সুমন জানান, সেলাইয়ের সুতা, ভায়োডিন ও ব্যথার ইনজেকশনসহ বিভিন্ন সামগ্রী কিনতে প্রথমে প্রায় ২ হাজার এবং পরে আরও ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। সেলাইয়ের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ টাকা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। সার্জারি ওয়ার্ডের রোগী নুরজাহান বেগমের স্বজন মো. ইকবাল বলেন, সেলাইয়ের সুতা ও ইনজেকশন কিনতে তার প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা খরচ হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রের দাবি, সরকারি সরবরাহে ভিক্রিল, প্রলিনসহ বিভিন্ন সেলাইয়ের সুতা, স্যালাইন, সিরিঞ্জ, আইভি কেনুলা, গ্লাভস এবং মেরোপেনেম, সেফট্রিয়াক্সোন ও কিটোরোলাকসহ বিভিন্ন ওষুধ রয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. আশরাফুজ্জামান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সেলাই দেওয়ার আগে চিকিৎসকের অনুমতি নেওয়ার কথা। তবে কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ডবয়রা নিয়ম না মেনে রোগীদের বাইরে থেকে সামগ্রী কিনতে বলছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন, স্টকে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী রোগীদের সেগুলো পাওয়ার কথা। কেন রোগীরা এসব সামগ্রী পাচ্ছেন না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ অবস্থায় সরকারি সরবরাহের সামগ্রী রোগীদের না দিয়ে বাইরে থেকে কেনানো হচ্ছে কি না এবং মজুত ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তা স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।