September 9, 2026, 8:54 pm

থানায় এক চেয়ার দুই ওসি, দায়িত্ব হস্তান্তরে ভোগান্তি

অভয়নগর প্রতিবেদক

নওগাঁর সাপাহার থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদে দায়িত্ব হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। নতুন ওসি থানায় যোগদান করলেও বিদায়ী ওসি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় থানার প্রশাসনিক ও আইনগত কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ের এক আদেশে সাপাহার থানার ওসি মিজানুর রহমানকে জনস্বার্থে জয়পুরহাট জেলায় বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন ওসি মো. শাহীন রেজা সাপাহার থানায় যোগদান করেন। তবে নতুন ওসি উপস্থিত থাকার পরও দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, সাধারণ ডায়েরি (জিডি), দাপ্তরিক কাজ ও বিভিন্ন আইনি সেবা নিতে থানায় গিয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। উপজেলার গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোকসেদুল ইসলাম জানান, তিনি সকাল ৯টায় থানায় গিয়ে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কাজ শেষ করতে পারেননি। পুরাতন মুহুরি পট্টি এলাকার শিক্ষার্থী জারিফ জানান, একটি জিডি করার জন্য সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত থানায় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে থানায় আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় জনগণের জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির প্রকৃত প্রশাসনিক অবস্থাও আরও স্পষ্ট হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদায়ী ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে থানায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে ডিউটিরত পুলিশ সদস্যরা জানান, তিনি নিজ কক্ষে ব্যস্ত রয়েছেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিদায়ী ওসি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে গাড়িতে করে থানা ত্যাগ করেন। নতুন ওসি মো. শাহীন রেজা জানান, তিনি আগের দিন থেকেই থানায় অবস্থান করছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে পাননি। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি নাগরিক সেবা নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।



ফেসবুক কর্নার