
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। জ্বালানির মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে দেশটিতে ডিজেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। খবর রয়টার্সের। অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পণ্যবাহী ট্রাক, ট্রেন, জাহাজ, ভারী যন্ত্রপাতি ও কৃষিযন্ত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক প্যাট দে হান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন বাজারে পরিবাহিত পণ্য, প্যাকেজ ও খাদ্যসামগ্রীর পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এতে পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলে মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ইউএস-ইরান সংঘাত তীব্র হওয়ার পর অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে।
আমেরিকান জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের মজুদ বর্তমানে গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়া, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনা জ্বালানি রপ্তানিতে কড়াকড়ির কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়েছে। সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এবং জ্বালানি ব্যয় কমাতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।