
নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের আটঘরা এলাকায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির অভিযোগে একটি অবৈধ কারখানার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিছালী ইউনিয়নের বর্ণির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন নড়াইল জেলা সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি সজিব রহমান ও দৈনিক স্বাধীন দেশের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি রাসেল হোসাইন। তাঁদের অভিযোগ, বিছালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হাসিবুর মোল্যার পরিচালিত ওই কারখানার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কারখানা মালিক তাঁদের বিভিন্নভাবে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করেন। সাংবাদিকরা তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে নড়াইল শহরে ফেরার পথে বর্ণির মোড় এলাকায় হাসিবুর ও তাঁর লোকজন তাঁদের ঘিরে হেনস্তা ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, আটঘরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির কার্যক্রম চলে আসছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে শনিবার সকালে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে কারখানার মালিকের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়। সাংবাদিকরা তাঁর কোনো প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরে ফেরার পথে তাঁদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ঘটনায় জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী নিন্দা জানিয়েছেন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের বিছালী ইউনিয়নের সভাপতি হাসিবুর মোল্যা বলেন, তাঁর কারখানাটি অবৈধ না বৈধ, তা তিনি জানেন না। তিনি দাবি করেন, প্রায় ১০ বছর ধরে সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন এবং তিনি তাঁদের সহযোগিতা করে আসছেন। কারখানাটি অবৈধ হলে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের কথাও বলেন তিনি। তবে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সারোয়ার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই সাংবাদিককে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে