September 14, 2026, 4:09 am

বন্যার্তদের জন্য বাড়তি সহায়তা দাবি বাচ্চু মোল্লার

তানভীর আজাদ জাহিদ দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বহু ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও পাটখেত। হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি আরও ৭ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে পানি বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঘরবাড়িতে সাপ ও বিষাক্ত পোকামাকড় ঢুকে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় রান্না, বসবাস, বাজারে যাতায়াত ও খাদ্য সংগ্রহে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসি মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চরাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ পাট ও অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই ইউনিয়নে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭০ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুর গোখাদ্য সংগ্রহেও সংকট দেখা দিয়েছে। চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, বন্যাকবলিত প্রায় ১ হাজার ৬০০ পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল এবং ২৫০ পরিবারের জন্য ডাল, তেল, লবণসহ শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক শত পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় বর্তমান সহায়তা অপ্রতুল। তারা বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, চিকিৎসাসেবা, গোখাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা জানান, গত চার থেকে পাঁচ দিনের বন্যায় দুই ইউনিয়নের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ২ লাখ টাকা ও ১০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৮ টন চাল বরাদ্দ আসার কথা রয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় এ সহায়তা অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি জরুরি ভিত্তিতে আরও অন্তত ২০০ টন চাল ও ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন, নষ্ট ফসলের ক্ষতিপূরণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ, ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা ও সাপের উপদ্রব বাড়ায় দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, মেডিকেল টিম, সাপের কামড়ের চিকিৎসা ও গোখাদ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



ফেসবুক কর্নার