
রাজশাহীর তানোরে তৃতীয় শ্রেণির ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আরমান আলী (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েল গুচ্ছো গ্রামের মৃত সলেমানের ছেলে। রোববার দুপুরে পাশের বানিয়াল গ্রামের লোকজন তাঁকে আটক করে তানোর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর আগে শনিবার রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে তানোর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে শিশুটি তার আড়াই বছর বয়সী ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ির একটি ঘরে টেলিভিশন দেখছিল। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখার কথা বলে ঘরে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটির মা ছাগল আনতে বাড়ির পাশের মাঠে গেলে আরমান আলী শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরে শিশুটির মা বাড়িতে ফিরে এলে শিশুটি তাঁকে ঘটনার কথা জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন গ্রামের মাতব্বরদের অবহিত করেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয় বলে এলাকাবাসী জানান। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। পরে রোববার দুপুরে বানিয়াল গ্রামের কয়েকজন তাঁকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্বীকারোক্তির তথ্য জানানো হয়নি। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় তানোর থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রতিবেদনে তার নাম, পরিচয় এবং পরিবারের এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, যার মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।