কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সন্ধ্যার পর সংযোগে সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক মেরামতের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে পরদিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে হটলাইন বা কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও দ্রুত সেবা পাওয়া যায় না।
ওজোপাডিকোর স্থানীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী উপজেলায় সংস্থাটির গ্রাহক প্রায় ১৪ হাজার। এসব গ্রাহককে সেবা দিতে লাইনম্যান রয়েছেন মাত্র দুজন। এর মধ্যে একজন শারীরিক অসুস্থতায় থাকায় নৈশকালীন জরুরি মেরামত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। রাত ১০টার পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লাইনের ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও সীমিত। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে শিশু ও প্রবীণদের ভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্প, কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভোল্টেজ ওঠানামায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কুষ্টিয়া ওজোপাডিকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, গত এক থেকে দেড় দশকে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। তিন শিফটে বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল রাখতে অন্তত ছয়জন লাইনম্যান প্রয়োজন হলেও রয়েছেন দুজন। গ্রাহকদের কল গ্রহণের জন্যও পৃথক কর্মী নেই। তবে চুক্তিভিত্তিক নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তা সম্পন্ন হলে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।