
ঝিনাইদহে স্থায়ী ঠিকানা জটিলতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ আটকে গেছে মিশন আচার্যের। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় হতাশায় পড়েছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের দাবি, এর আগে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ঠিকানা যাচাইয়ে বাদ পড়েছিলেন মিশন। পরে সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে তার এক খালু মিশনের নামে দুই শতক জমি লিখে দেন বলে জানান তার বড় ভাই শৈলেন।
বর্তমানে মিশন তার মা ময়না আচার্য ও বৃদ্ধা নানি সুবর্ণা বিশ্বাসকে নিয়ে শহরের কলাবাগান এলাকায় কদু মিয়ার পুরোনো সেমিপাকা বাড়ির ভাড়া কক্ষে থাকেন। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় ৪৫ বছর ধরে তারা ওই এলাকায় বসবাস করছেন। অভাব-অনটনের সংসারে মানুষের বাড়িতে কাজ করে ছেলেদের বড় করেছেন ময়না আচার্য। মিশন ঝিনাইদহ কাঞ্চননগর স্কুল থেকে এসএসসি, শিশুকুঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। মিশন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কলাবাগানের ঠিকানা দিয়েছেন এবং সব চিঠিপত্রও সেখানে আসে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে স্থায়ী ঠিকানার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ কারণে মিশনের নিয়োগ আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে তার নামে জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, জেলায় ১৭৬ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি দুজনের মধ্যে মিশনের নিয়োগ ঠিকানা জটিলতায় এবং অন্যজনের নিয়োগ মামলার কারণে স্থগিত রয়েছে।