
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছেন। এখন দেশের উন্নয়ন ও গঠনেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী রাধা গোবিন্দ মন্দির (ধর্মসভা) পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পূজারি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকারসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান। মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেকও হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী দরিদ্র ছাত্রীদের বিনা খরচে আবাসনের জন্য মন্দিরের জায়গায় ছয়তলা ভবন নির্মাণে আগামী দুই বছরের মধ্যে উদ্যোগ নিতে জেলা পরিষদকে নির্দেশ দেন তিনি।
এর আগে সৈয়দপুর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জের চৌপথী এবং রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীরে পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এ দেশের নাগরিক। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ১২ তারিখের নির্বাচনের পর বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কৃষকসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতার ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব হলেও পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে সবাইকে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব সবার—এ কথা উল্লেখ করে তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।