
ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদের আগে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর জিরো পয়েন্টে ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগকালে তিনি এ কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। তিনি বলেন, ফুটপাতের দোকানিরা দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। যানজট নিরসনে ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে সমর্থন করলেও দোকানিদের বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ফুটপাতের দোকানিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয় এবং দোকান বরাদ্দ পেতেও রাজনৈতিক প্রভাবের প্রয়োজন হয়। তাঁর দাবি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এলপিজি গ্যাসের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও কোথাও ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কিছু অসাধু চক্র অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনেও সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া মুক্তবাজার অর্থনীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী নির্বাচনী ব্যয়, এজেন্ট নিয়োগ এবং কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারেক রহমানের এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি এবং ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। এসব বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।