
জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাভোগ শেষে মুক্তিলাভ উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের অধিকার, সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এক মাস তিন দিন কারাভোগ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, ট্রলির সংকট ও মালামাল চুরিসহ বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদ করেছিলেন আখতারুজ্জামান। ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, তাঁর প্রতিবাদের পর নতুন ট্রলি সংযোজন, লাগেজ বেল্টে ক্যামেরা স্থাপন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের মতো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা, রিমান্ডে নেওয়া এবং আদালত প্রাঙ্গণে তাঁকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা দুঃখজনক। প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সমস্যা সমাধানে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত। অনুষ্ঠানে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রিমান্ডে নিয়ে চোখ বেঁধে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার পুলিশের আছে কি না। তাঁর দাবি, অপরাধের তদন্ত পুলিশের দায়িত্ব হলেও রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বিষয়ে অনুসন্ধানের নামে জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণযোগ্য নয়।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান আরও বলেন, নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর উচ্চ আদালতে জামিন পেলেও বিষয়টি চেম্বার আদালতে নেওয়া হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবাদ ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। প্রবাসীদের অধিকার ও কল্যাণে দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি তাঁদের জন্য একটি রিসিপশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান। মুক্তির পর সংবর্ধনা আয়োজন এবং কারাভোগের সময়ে পাশে থাকার জন্য জামায়াতে ইসলামী, দেশবাসী ও প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমানও মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মুক্তির পর দেশবাসী ও প্রবাসীদের সমর্থন ও ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানান।