প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর সাংবাদিকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা–২০২৬। শনিবার (৩ জানুয়ারি) হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার ভোর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে বনভোজনের যাত্রা শুরু হয়। সকাল বেলা সাংবাদিকদের বহনকারী যানবাহন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সাতছড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পুরো যাত্রাপথজুড়ে ছিল আনন্দ, আড্ডা ও প্রাণবন্ত পরিবেশ। সাতছড়িতে পৌঁছে প্রকৃতির সবুজে ঘেরা পরিবেশে একে একে শুরু হয় দিনের নানা আয়োজন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পাহাড়, লতা-গুল্ম, চা বাগান ও ঘন অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে ঘোরাঘুরি করেন সাংবাদিকরা। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সুউচ্চ বৃক্ষরাজি, পাখির কলকাকলি এবং বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ উপস্থিত সবাইকে প্রকৃতির আরও কাছে নিয়ে যায়। কেউ কেউ প্রকৃতির দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন, আবার কেউ নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি উপভোগ করেন।
বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পার্শ্ববর্তী চা বাগানে ভ্রমণ। সবুজ চা পাতার গালিচায় মোড়া বাগানে সময় কাটানো, ছবি তোলা এবং ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখার মুহূর্তগুলো অংশগ্রহণকারীদের জন্য হয়ে ওঠে স্মরণীয়। এসব আয়োজন সাংবাদিকদের ব্যস্ত কর্মজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয়।
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি এনামুল হক আরিফ ও সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বনভোজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজয়নগর উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, আখাউড়া উপজেলা শাখার সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সদস্যরা।
বনভোজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে সহকর্মী সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা। দুপুরে সবাই একসঙ্গে প্রীতিভোজে অংশ নেন। এ সময় এক টেবিলে বসে সাংবাদিকরা গল্প, স্মৃতিচারণ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, যা সংগঠনের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
বিকেল পর্বে অনুষ্ঠিত হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গান, কৌতুক ও বিনোদনমূলক আয়োজন পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। পরে চা বাগানের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই আনন্দঘন ভ্রমণ ও মিলনমেলার সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকরা জানান, এমন আয়োজন সাংবাদিকদের মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি সংগঠনের ঐক্য ও কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।