জয়পুরহাটে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের সংকট। জেলা আধুনিক জেনারেল হাসপাতালসহ কোনো ফার্মেসিতেই মিলছে না এই জরুরি টিকা। আজ বৃহস্পতিবার হাসপাতালে টিকা নিতে এসে খালি হাতে ফিরে গেছেন অন্তত শতাধিক রোগী, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে আজ সকালে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ দীর্ঘ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, স্টকে কোনো ভ্যাকসিন নেই। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা বিপাকে পড়েন। অনেকে অভিযোগ করেন, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর যখন বলা হয় ভ্যাকসিন নেই, তখন তাদের অসহায় হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
ভোগান্তির শিকার এক রোগী জানান, “সকাল থেকে এসে বসে আছি, এখন বলছে টিকা নাই। বাইরে কোনো দোকানেও টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। এখন আমরা কোথায় যাব?”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই সরবরাহে ঘাটতি ছিল, যা আজ বৃহস্পতিবার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। জেলা শহরের বড় বড় ফার্মেসিগুলোতেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানিগুলো থেকে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা রোগীদের চাহিদা পূরণ করতে পারছেন না।
চিকিৎসকদের মতে, জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী রোগ। কুকুরে কামড়ানোর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই টিকা না নিলে জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ না থাকায় দরিদ্র রোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ভ্যাকসিনের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ পাওয়া মাত্রই পুনরায় টিকাদান কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। তবে ততক্ষণ পর্যন্ত রোগীদের আক্রান্ত স্থান দ্রুত ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলার এবং নিকটস্থ বড় শহরের কোনো হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
দ্রুত এই সংকট নিরসন না হলে জেলায় জলাতঙ্ক সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তারা জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।